আস্তে প্লিজ আস্তে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, আমি এতবার পারছি না…

আমি তখন এস এস সি সবেমাত্র পাশ করেছি। আমাদের জেলার একটি সরকারী কলেজে ভর্তি হয়ে খুব ভালোভাবে লেখাপড়া শুরু করি। আগেই বলে রাখছি আমি তখন পর্যন্ত কারো সাথে রিলেশন করি নি। এক কথায় আমি তখন খুব ভালো একটি মেয়ে ছিলাম। আমাদের গ্রাম থেকে শহর দূরের রাস্তা হওয়ায় আমাকে শহরেই মেসে থেকে লেখাপড়া চালাতে হয়। শহরে এসেই নতুন পরিবেশ নতুন জীবন প্রথমত আমাকে একটু বিরক্তিতে ফেললেও আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যায়। এভাবে আমার পড়াশুনা চলতে থাকে। আমার রুমমেট একটি ছেলের সাথে সম্পর্ক করে। সে অনেক রাত পর্যন্ত তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ফোনে কথা বলে। মাঝে মাঝে মেসে রাতে আসেও না।

একদিন সে বলল, চল বাহিরে বেড়াতে যাব। আমি রাজি হয়ে গেলাম। কিন্তু একটি শর্তে। সন্ধ্যার আগে মেসে ফিরতে হবে। বেড়াতে গিয়ে বুঝতে পারলাম যে, সে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে আসছে। শুধু তার বয়ফ্রেন্ড হলে তো কোন কথাই নেই। তার সাথে একটি ছেলেও আসছে। তারা দুজনে এক জায়গায় বসে গল্প করতে লগলো। আর ছেলেটি আমার কাছেই থেকে গেল। আমার নাম, বাবা কি করেন, কয় ভাই-বোন, কোন ক্লাসে পড়ছি, আমি দেখতে খুব সুন্দর ইত্যাদি জিজ্ঞাস করছিল। আমি একটু অসস্থি অনুভব করছিলাম। কিছুক্ষন পরে আমার বান্ধবী ও তার বয়ফ্রেন্ড আমাদের কাছে এসে বলল চলো কিছু নাস্তা করি। একটি হোটেলে অনেক খাবারের অর্ডার করল। আমি তো অবাক। ছেলেগুলো আমাদের জন্য এতো খরচ করছে কেন? হোটেল থেকে বের হয়ে আমরা মেসে চলে আসলাম। আমার যে, একটুকুও ভালো লাগেনি এটা বলব না। তবে প্রথমবার গিয়েছিলাম তো তাই এমন হয়েছিল। রাতে আমার বান্ধবী তার প্রেমিকের সাথে কথা বলার পর সকালে আমার বান্ধবী আমাকে বলল যে, নতুন ছেলেটিকে আমার কেমন লাগছে? আমি বললাম কেন? সে বলল সে নাকি আমাকে অনেক পছন্দ করে ফেলেছে। আমার সাথে রিলেশন করতে চায়। অবশ্য ছেলেটি মন্দ ছিল না। আমি রুমমেটকে জানিয়ে দিলাম যে, আমি এসব রিলেশন কারো সাথে করব না।

পরের দিন আমার মোবাইলে নতুন একটি নতুন নম্বর থেকে কল আসলো। সে আর কেউ না। সেই ছেলেটি, যে সেদিন আমাদের সাথে দেখা করতে আসছিল। আমি কয়েকটি কথা বলে কল কেটে দিলাম। তারপর আমার বান্ধবীকে গিয়ে বললাম আমার নম্বর দিয়েছো কেন? সে বলল আমাকে অনেকবার রিকুয়েস্ট করে তোমার নম্বর নিয়েছে। যাই হোক আমি আর তেমন কিছু বললাম না। তখন থেকে ছেলেটি প্রতিদিন আমাকে কল দিতে লাগলো। আমি অল্প অল্প করে কথা বলে রেখে দিতাম। কিছুদিন যাওয়ার পর তার কথা আমারও মনে হতে লাগলো। আমার বান্ধবীর মতো আমিও রাত জেগে কথা বলা শুরু করে দিলাম। এরপর ডেটিংয়ের পালা। নিয়মিত দেখা করা ও বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বের হওয়া ইত্যাদি আমার জীবনে শুরু হয়ে গেল। একদিন আমার একটি নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে গেল। অন্যান্য দিনের মতো দেখা করতে গেলাম। সে বলল তার এক খালার বাসায় নাকি সে আজ দেখা করবে। আমি তার কথায় রাজি হয়ে গেলাম। বাসায় গিয়ে সব অন্য রকম লাগলো। বাসায় আমরা যাওয়ার পর তার খালা বাসার চাবি আমাদের দিয়ে বাহিরে চলে গেলেন। বাসায় শুধু আমরা দুজন। আমার মনে হচ্ছিল আজকের এই সুবর্ণ সুযোগটা হয়তো সে মিস করবে না। এই জন্য আমার একটু একটু ভয় হচ্ছিল।

যথারীতি আমরা রুমের ভেতরে ঢুকলাম। সে দরজা বন্ধ করেই আমাকে জরিয়ে ধরে আদর করতে লাগলো। আমি না বললে সে একরকম জোর করেই আমাকে বিবস্ত্র করে ফেলল মূহুর্তের মধ্যেই। এরপর শুরু হলো আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের পালা। সে আমাকে এক রকম ব্যদ্ধ করেই মেলামেশা করল। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু কিছু বলার ছিল না। প্রেমের সম্পর্ক থাকায় আমি বেশী কিছু বলতেও পারছিলাম না। সে তিনবার আমার সাথে এই কাজ করে। তারপর আমরা বাহিরে বের হয়ে রুমে তালা দিয়ে চলে আসলাম। এরপর থেকেই প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তার সাথে আমার এসব করতে হয়। আমি কোন অজুহাত দেখাতে পারি না। বাড়িতে গেলে সে কল দিলেই চলে আসতে হয় আমাকে। এভাবে প্রায় চার মাস চলে। এখন আর এগুলো খারাপ কাজ করতে আমাকে একটুকুও ভালো লাগে না। সঠিক সময়ে হয়তো সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারিনি বলেই আজ আমার এই হাল। ছেলেটি আসলে আমাকে অনেক মিথ্যে কথা বলে তার ফাদেঁ ফেলেছিল। আমি এখন তার হাত থেকে পরিত্রান পেতে চাই। দয়া করে এমন একটি পরামর্শ দেবেন যাতে আমি এই মরন ফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে পারি।

পরামর্শ: আপু, আপনি একটি গ্রামের মেয়ে তাই বলছি, মেয়েরা তো ডানাকাটা পরী। তারা সুযোগ পেলেই এমন কিছু করে ফেলে যা অবশ্যই কাঙ্খিত না। আপনার অবিভাবক যদি আপনার সাথে থাকতো তাহলে হয়তো এমন হতো না। আর হ্যাঁ যা হবার হয়েছে। এখন নিজেকেই দোষী মনে করে এসব থেকে নিজেকে সরে নিন। আর দ্রুত অন্য কোন জায়গায় নিজেকে শিফট করেন। সেই যেন কোন ভাবেই আপনার সাথে যোগাযোগ করতে না পারে এমন জায়গায় চলে যান। হয়তো আপনার এই সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।

Comments are closed.